মাদানী তা’লিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ: শিক্ষক প্রশিক্ষণ ২০২৬ — কুরআনের খেদমতে এক অনন্য উদ্যোগ

ভূমিকা

আলহামদুলিল্লাহ! কুরআন মাজীদ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত। আর এই কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, তাজবীদ ও তা’লীমের জন্য দক্ষ ও মুখলিস শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। সেই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাদানী তা’লিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ প্রতি বছরের ন্যায় ২০২৬ সালেও আয়োজন করতে যাচ্ছে “শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স”। এটি শুধু একটি কোর্স নয়, বরং কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একদল আত্মনিবেদিত মুআল্লিম তৈরির মোবারক কারখানা।

কেন এই প্রশিক্ষণ জরুরি?

বর্তমান সময়ে নূরানী ও হিফজ মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়লেও মানসম্মত শিক্ষকের সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অনেক মেধাবী আলেম তাজবীদের সূক্ষ্ম কায়দা-কানুন, ছাত্রদের মনস্তত্ত্ব বুঝে পড়ানোর পদ্ধতি এবং আধুনিক তা’লীম উপকরণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। ফলে কোমলমতি শিশুরা বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মাদানী বোর্ডের এই প্রশিক্ষণ সেই শূন্যতা পূরণেরই একটি প্রচেষ্টা। এখানে একজন শিক্ষক শিখবেন: কীভাবে মাখরাজ সহীহ করাতে হয়, কীভাবে দুর্বল ছাত্রকে সবল করতে হয়, কীভাবে আদব-আখলাকের সাথে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়। উত্তরার মতো যাতায়াত-সুবিধাসম্পন্ন স্থানে আয়োজন করায় সারাদেশের আলেম-উলামা সহজেই অংশ নিতে পারবেন।

কোর্সের বৈশিষ্ট্য

এই প্রশিক্ষণে শুধু কুরআন মাজীদ সহীহ-শুদ্ধভাবে পড়ানোর যোগ্যতাই নয়, বরং একজন আদর্শ মুআল্লিম হওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি দেওয়া হয়:

  1. বিশুদ্ধ তাজবীদ ও মাশক: দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্বারী ও নূরানী প্রশিক্ষকগণ সরাসরি মাখরাজ-সিফাত হাতে কলমে শেখাবেন। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, প্রত্যেককে মাশক করিয়ে শতভাগ সহীহ করা হবে।
  2. বেসিক বিষয়: ক্লাস থ্রি পর্যন্ত আরবি, বাংলা, ইংরেজি পড়ানোর আধুনিক কৌশল।
  3. হাতের লেখা: বাচ্চাদের সুন্দর হাতের লেখা শেখানোর প্রশিক্ষণ।
  4. ক্লাস ম্যানেজমেন্ট ও তা’লীমুল মুতা’আল্লিম: ছাত্র গড়ার নবী-তরিকা, ক্লাস পরিচালনা ও অভিভাবক সমাবেশের নিয়ম।
  5. আবাসিক সুবিধা: দূর-দূরান্তের শিক্ষকদের জন্য স্বল্প খরচে থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।
  6. সনদ ও খেদমত: কোর্স শেষে বোর্ড অনুমোদিত সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে, যা দেশের যেকোনো মাদ্রাসায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ইনশাআল্লাহ, বোর্ড কর্তৃক বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে খেদমতের সু-ব্যবস্থাও থাকবে।

কারা ভর্তি হতে পারবেন?

হাফেজ, মাওলানা, মুফতি অথবা নূরানী মুআল্লিম— যারা নিজেদেরকে আরও যোগ্য করে গড়ে তুলতে চান, কুরআনের খেদমতকে পেশা হিসেবে নিতে চান— তাদের সকলের জন্য এই কোর্স উন্মুক্ত।

যোগ্যতা: দাওরা হাদিস শর্ত নয়। হাফেজ বা দাওরা সম্পন্ন হলে ভালো, তবে ন্যূনতম কুরআন শরীফ সহীহ-শুদ্ধভাবে পড়তে পারার যোগ্যতা আবশ্যক। কুরআনের খেদমতের জযবা থাকাই মূল শর্ত।

সময়সূচি ও স্থান

🗓️ ১ম ব্যাচ: ১৫ জুন – ৩০ জুলাই ২০২৬
🗓️ ২য় ব্যাচ: ১০ আগস্ট – ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
🗓️ ৩য় ব্যাচ: ০৫ অক্টোবর – ২০ নভেম্বর ২০২৬
🗓️ ৪র্থ ব্যাচ: ১৫ শাবান ১৪৪৭ হি. থেকে ঈদুল ফিতরের পূর্ব পর্যন্ত

📌 স্থান: জামিয়াতুস সাহাবা মাদ্রাসা, উত্তরা, ঢাকা। শুধুমাত্র আবাসিক।

শেষ কথা

একজন আদর্শ শিক্ষক হাজারো হাফেজ তৈরির কারিগর। আপনার একটু মেহনতের বদৌলতে শত শত শিশু কিয়ামত পর্যন্ত আপনার জন্য সদকায়ে জারিয়া হয়ে থাকবে। তাই দেরি না করে আজই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে নিজে কুরআন শেখে এবং অপরকে শেখায়।” [সহীহ বুখারী]

আসুন, আমরা এই হাদীসের মিসদাক হই। কুরআনের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করি।

যোগাযোগ ও রেজিস্ট্রেশন:
মাদানী তা’লিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ
হটলাইন: 01913016662, +880 1728-078910
ওয়েবসাইট: http://www.madanitalimulquranbd.com

_আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন।